1. ayanabirbd@gmail.com : সামিয়া মাহজাবিন :
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ: প্রথম দফায় ১১ হাজার নাম, আসছে শাস্তির বিধান

মামুন সিরাজী
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাংলাদেশের মানুষের সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে অবশেষে । আজ (রোববার, ১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। আজ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধি রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ শুরু হচ্ছে।


প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য মতে, এই তালিকার প্রথম দফায় শুধুমাত্র রাজধানীতেই রাজাকারের সংখ্যা ১১ হাজারের মতো। এদিকে রাজাকারদের তালিকার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে ইউটিভিকে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক।

নতুন প্রজন্মকে জানাতেই স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের নাম প্রকাশের এমন উদ্যোগ সরকার নিয়েছে

রোববার সকালে সচিবালয় সংলগ্ন সরকারি পরিবহন পুল ভবনের ৬ তলায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে রাজাকারদের এই তালিকাগুলো ঘোষণা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও (প্রথম পর্ব) প্রকাশ করা হবে।

প্রথম দফায় তালিকায়া ঠাঁই পাওয়া এই ১১ হাজার রাজাকারের নাম প্রকাশের পর দেশের মহকুমা, জেলা, থানা পর্যায়ে রাজাকারের তালিকা করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন জেলার সরকারী নথিপত্র ঘেটে সে সময় যারা রাজাকারের ভাতা তুলেছেন এবং অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেছেন। শুধু মাত্র তাদের দালিলীক তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে জেলা,থানা এবং মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

এর প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সূফি আব্দুল্লাহ হিল মারুফ বলেন, আজ রোববার যে তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী প্রকাশ করবেন তা নতুন কিছু নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অতীতের সংগ্রহ করা একাত্তরের রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে যারা ভাতা নিয়েছে বা যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, তাদের নাম-পরিচয়, ভূমিকাসহ যেসব তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ছিল সেই তথ্য ধরে করা তালিকাই যাচাই-বাছাই করে আবার প্রকাশ করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ঘাতক বাহিনীর সদস্যদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

একই প্রসঙ্গে মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক জানান, এটি নতুন কোনও তালিকা নয়। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজাকারদের তালিকা আগে থেকেই রয়েছে। রাজাকার হিসেবে যারা যারা ভাতা নিয়েছে, রাজাকার হিসেবে যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও অনেক নাম রয়েছে, যারা রাজাকার হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে, সেসব নাম যোগাড় করেই এই তালিকা আগে থেকেই ছিল। সেই তালিকা ধরেই প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হবে। পর্যায়ক্রমে রাজাকারদের আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ণ শেষে সারাদেশের স্ব-স্ব এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা নির্যাতিত হয়েছেন, যারা ভুক্তভোগী রয়েছেন, তাদের দিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করানো হবে। এরপরই রাজাকারদের আইনের আওতায় এনে বিচারিক আদালতে দাড় করানো হবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানাতেই স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের নাম প্রকাশের এমন উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা আগে থেকেই রয়েছে তার একটি অংশও তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।


@ UTV সাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর