ঢাকাশুক্রবার , ৭ জানুয়ারি ২০২২
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইউ কৃষি
  6. ইউ মিউজিক
  7. ইউ স্পোর্টস
  8. ইউটিভি পরিবার
  9. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  10. উদোক্তা
  11. উৎসব
  12. এককাপ চা
  13. এক্সক্লুসিভ
  14. খেলা
  15. গণমাধ্যম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১১ বছর পরেও কাটাতারে ঝুলছে ফেলানীর আত্মা

প্রতিবেদক
ফাহমিদা সুলতানা
জানুয়ারি ৭, ২০২২ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১১ বছর। কিন্তু কুড়িগ্রামের সীমান্তে ফেলানী হত্যার ন্যায্য বিচার হয়নি। বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের বিচারের রায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে খালাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে রিট করা হলেও তারিখের পর তারিখ বদলেছে। কিন্তু শুনানি হয়নি। কবে শুনানি হবে তাও এখন অনিশ্চিত। তারপরও ন্যায্য বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুণছেন ফেলানীর পিতা-মাতাসহ স্বজনরা।

ভারতের বিএসএফের গুলিতে ফেলানী নিহত হওয়ার ১১তম বার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করেছিল বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ। তার মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল পাঁচ ঘণ্টা। এরপর নানান প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ ফেলানীর মরদেহ হস্তান্তর করেছিল বিজিবি’র কাছে।

বিজিবি’র কাছ থেকে ফেলানীর মরদেহ গ্রহণ করেছিলেন তার মামা আব্দুল হানিফ। এরপর মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর ফেলানীর মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের পৈত্রিক ভিটায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহারে অবস্থিত তৎকালীন ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনস্ত চৌধুরীরহাট বিওপি’র কোম্পানী কমান্ডারের এফআইআর এর ভিত্তিতে দিনহাটা থানায় একটি জিডি করা হয় (জিডি নম্বর-৩৪৯)। ওইদিন থানায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয় (মামলা নম্বর-৫/১১)।
ঘটনাটি নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হলে অনেকটা বাধ্য হয়েই বিএসএফ ফেলানী হত্যার বিচারে সম্মতি দেয়। এরপর থানায় রেকর্ডকৃত ইউডি মামলার সূত্র ধরে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট থেকে বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এই কোর্ট ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়।
ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম ও মাতা জাহানারা বেগম এই রায় প্রত্যাখান করলে ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুনরায় বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। এরই প্রেক্ষিতে একই বিচারকদের নিয়ে গঠিত কোর্টে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আবার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক দফা তারিখ পেছানোর পর ২০১৫ সালের ২ জুলাই আবারও অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয় ওই কোর্ট।
বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের বিচারে সাক্ষ্য দিতে ভারতের কুচবিহারে গিয়েছিলেন ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম। আরও গিয়েছিলেন ফেলানীর মরদেহ গ্রহণকারী মামা আব্দুল হানিফ। এছাড়া পুনরায় বিচারের সময় ফেলানীর পিতা আবারও সাক্ষ্য দিতে বিএসএফ কোর্ট গিয়েছিলেন। তাকে সহযোগিতা করতে দু’বারই নিযুক্ত হয়ে বিএসএফ কোর্টে গিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন।
বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের পুনরায় বিচারের রায় প্রত্যাখান করে পুনরায় তদন্ত ও বিচার চেয়ে ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম এবং কলকাতার মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ- মাসুম’ এর সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায় যৌথভাবে বাদি হয়ে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে একটি রিট দাখিল করেন (রিট আবেদন নম্বর-১৪১/২০১৫)। রিটের হলফনামায় ফেলানীর পিতা নুর ইসলামের পাশাপাশি স্বাক্ষর করেছিলেন কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন।


রিটে ভারত ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র সচিব, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্য সচিব, বিএসএফের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর পরিচালককে বিবাদী করা হয়।
এর আগে ২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বাদি হয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। এই দু’টি রিটের শুনানি এক সাথে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুনানি হয়নি।
কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন ইউটিভিকে জানান, একাধিকবার তারিখ বদলের পর ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভারতের সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি এন ভি রামানা ও বিচারপতি মোহন এম সান্তনা গৌদ্ধারকে নিয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে শুনানীর জন্য আইটেম নম্বর-৩ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। অথচ সুপ্রীম কোর্ট থেকে বিবাদীদের শোকজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা শোকজের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে শুনানী হয়নি। বর্তমানে কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে আছে রিটটি। করোনার কারণে রিটটির সর্বশেষ অবস্থাও এখন জানেন না তিনি।
আব্রাহাম লিংকন ন্যায্য বিচারের আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে বাদী ছিল বিএসএফ, আসামি ছিল বিএসএফ এবং বিচারকও ছিল বিএসএফ। ফলে ন্যায্য বিচার পাওয়া যায়নি। সুপ্রীম কোর্টে ন্যায্য বিচার পাওয়া যাবে। আর এই রিট নিস্পত্তি করতে সুপ্রীম কোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দিবেন তাতে দু’দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে ফেলানী হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন। কেননা অতি সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিএসএফের আচরণ নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে ফেলেছে। এর অবসান হওয়া দরকার।’

ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম ইউটিভিকে বলেন, দুই বার কুচবিহারে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের নৃশংসতার বর্ণনা দিয়েছি। তারপরও ন্যায্য বিচার পাইনি। ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য ভারতের সুপ্রীম কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেছি। শুনানী হচ্ছে না। তারপরও আশা ছাড়িনি। প্রতীক্ষায় আছি।
যত দিন ন্যায্য বিচার পাবো না, ততদিন বিচার চাইতে থাকবো।