ঢাকাশুক্রবার , ৩১ ডিসেম্বর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইউ কৃষি
  6. ইউ মিউজিক
  7. ইউ স্পোর্টস
  8. ইউটিভি পরিবার
  9. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  10. উদোক্তা
  11. উৎসব
  12. এককাপ চা
  13. এক্সক্লুসিভ
  14. খেলা
  15. গণমাধ্যম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনে সংকটে ডানাকাটা পরী

প্রতিবেদক
এমএম ফিরোজ, মোংলা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শিরোণাম পড়ে পাঠকরা একটু ভড়কে যেতে পারেন। রঙের দুনিয়ার ‘পরী’র ডানা মেলা নিয়ে অনেক কথা চাউর হলেও আজকের ‘পরী’কে সে সবের সাথে মিশিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। কি ভাবছেন? সুন্দরবনের ‘পরী’, তাও আবার ডানাকাটা ! আসলে সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় বিপন্ন প্রজাতির গোলাপি ডলফিন। এ গোলাপি ডলফিনকে ভালোবেসে সবাই ডাকেন ‘ডানাকাটা পরী’।

এক সময় হারহামেশায় দেখা মিললেও এখন বঙ্গোপসাগরে ও মোহনায় কালেভদ্রে এদের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। জলবায়ুর প্রভাবে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছে এ গোলাপি ও ইরাবতী ডলফিন।

গবেষকরা বলছেন, সুন্দরবনের সোয়াচ অব নো-গ্রাউন্ডে রয়েছে তিমি, ডলফিন, হাঙ্গরসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর অভয়ারণ্য। সুন্দরবন থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সাবমেরিন ক্যানিয়ন বা ‘সোয়াচ অব নো-গ্রাউন্ড’কে বলা হয় ডলফিনের স্বর্গ। সুন্দরবনে তিন ধরনের ডলফিন ও এক প্রজাতির পাখনাবিহীন শুশুক পাওয়া যায়। সম্প্রতি কয়েকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। জলবায়ুর প্রভাবে বন্যায় লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণেই ডলফিনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশ পরীবেশ আন্দোলনের (বাপা) নির্বাহী সহসভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, জলবায়ু পরীবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনের মধ্যে নদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়ছে বছরে তিন থেকে আট মিলিমিটার। ফলে জোয়ারের সময় বনভূমি ডুবে সংকুচিত হচ্ছে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র। বন্যা, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে নদীর পানির লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে কমে আসছে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে সুন্দরবনের প্রায় তিনশ কিলোমিটার এলাকা লবণপানিতে ডুবে থাকে। পানিতে ডুবে গেছে ছোট ছোট কয়েকটি দ্বীপ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে বিপন্ন ইরাবতী ও গোলাপি ডলফিন। ডলফিনের উপস্থিতি মানেই জলীয় পরীবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক।


প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ইরাবতী ডলফিনের পিঠে ছোট ত্রিকোণ একটি পাখনা আছে। যার অগ্রভাগ প্রায় গোলাকৃতি ও ভোঁতা। এদের ঠোঁটহীন মাথাও ভোঁতা। সোজা মুখাবয়ব এবং ঘাড়ের কাছে ভাঁজ সদৃশ্যমান। পূর্ণবয়স্ক ইরাবতী ডলফিন আকারে দুই থেকে ২.৭৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের পিঠ ও পাশের রং ধুসর ও নীলাভ-ধুসর এবং পেটের রং কিছুটা হালকা। এরা দলবদ্ধ প্রাণী। ইরাবতী ডলফিন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উপকূলীয় লবণ ও মিঠাপানিতে বাস করে। উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি থেকে বঙ্গোপসাগর এবং ইরাবতী নদী, মেকং নদী, মহাকাম নদী, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ইরাবতী ডলফিন দেখতে পাওয়া যায়।


এ বিষয়ে বন্যপ্রাণীবিষয়ক গবেষক ড. অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে রয়েছে বিপন্নপ্রায় আরেক প্রজাতির গোলাপি ডলফিন। এ গোলাপি ডলফিনকে কেউ বলে ডানাকাটা পরী, আবার কেউ বলে সাগরের রাজকন্যা। এক সময় হারহামেশায় দেখা মিললেও এখন বঙ্গোপসাগরে ও মোহনায় কালেভদ্রে এদের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ২০০২ সালেও ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির একটি জরিপে বাংলাদেশে গোলাপি ডলফিনের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানা যায়।


পৃথিবীজুড়ে গোলাপি ডলফিনকে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি হিসেবে মনে করা হয়। ব্যতিক্রমী গায়ের রং ছাড়া এই ডলফিনের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এর আকৃতি ও ওজন। পৃথিবীতে যে আট প্রজাতির ডলফিন আছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও বিরল। বর্তমানে জলবায়ুর প্রভাবে লবণপানি বাড়তে থাকায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে এই প্রজাতির ডলফিন।