ঢাকাশনিবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের :
শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারই সহকর্মী নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ

প্রতিবেদক
সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারই সহকর্মী নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক নারী শিক্ষক তারই সহকর্মী প্রভাষক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌণ হয়রানির অভিযোগ করেন।

গত বুধবার করা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অভিযোগের ঘটনাকে নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতিসহ নানান কারনকে দুষছেন তারা। খুলনা বিশ্ববিদ্যারয়ে গত এক দশকে চারজন শিক্ষক চাকুরী হারিয়েছেন শুধুমাত্র যৌণ হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে। তবে এ ধরনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র ছাত্র রাজনীতির হানাহানি ও সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় মনোযোগ কেড়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের। তবে ছায়া সুনিবিড় ও শান্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নানা সময় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যৌণ নীপিড়নের ঘটনা। এ পর্যন্ত শিক্ষাথীদের উত্তক্ত, আপত্তিকর প্রস্তাব, হয়রানি ও সরাসরি যৌণ নীপিড়নের অভিযোগ প্রমানতি হওয়ায় চারজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরী হারিয়েছেন। ২০১২সালে প্রথম অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, এরপর ২০১৩ সালে বাংলা বিভাগের আনিসুর রহমান, ২০১৬ সালে এগ্রো ডিসিপ্লিনের আমিনুল ইসলাম ও ২০১৭ সালে গনিত বিভাগের মো: শরিফউদ্দিনকে চাকুরীচ্যুত করা হয়।

কিন্তু এবার শিক্ষার্থী নয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌণ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তারই বিভাগের সহকর্মী নারী শিক্ষক। অভিযোগে ওই নারী শিক্ষক জানান, তাকে তারই সহকর্মী বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে সেখানেই যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করেন। এটি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃর্পক্ষ ও যৌণ নীপিড়ন প্রতিরোধ সেলে অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আর এধরনের কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্য কতৃর্পক্ষ ঘটনার যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রত্যাশা তার।

তবে প্রভাষক ছোটন দেবনাথ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও পরিকল্পিত বলে দাবী করেছেন। পেশাগত প্রতিযোগীতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার সম্মান নষ্ট করতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হেয় করতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তার বাসায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আশীষ কুমার দাসের মতে, সবোর্চ্চ বিদ্যাপীটের একজন শিক্ষকের কাছে এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও ভালো মানুষ কিনা সেটা যাচাই-বাছাই ও বিচার করার ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের ঘটনা এখন যতটা ঘটছে তারচেয়ে কম ঘটতো বলে তিনি মনে করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নিপিড়ন প্রতিরোধ সেল ও তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বলেন, সহকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিব্রত করছে তাকেও। তবে তদন্তে যিনি দোষী হবেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের বক্তব্য নেয়া হবে। বিশেষ করে আদালতে যেভাবে প্রসেস মেইনটেইন করা সেভাবে করা হবে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন ও যথাযথ কতৃর্পক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

যৌন নীপিড়নের অভিযোগের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো: মাহমুদ হোসেন। তিনি জানান, আইনে যেটা আছে সেভাবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দোষী বা নির্দোষ কিনা সেটা প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় যৌন হয়রানি ও নীপিড়নসহ ন্যাক্কারজনক ঘটনার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেবে কতৃর্পক্ষ। একইসাথে আগামীতে এ ধরনের কোন ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য কঠোর আইন প্রনয়নের এমনই প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।