ঢাকাবুধবার , ৭ জুলাই ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ

প্রতিবেদক
ইউটিভি ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২১ ৫:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব ও কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালীন সময়ে তিস্তা নদীতে আবারো পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের নদীর তীরবর্তী মানুষজন। নিরুপায় হয়ে পড়েছে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ।

ইতোমধ্যে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ, বড়দরগা, বুড়িড়হাটসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, বাগান, পুকুরসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে চরম অনিশ্চয়তায় ও অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে শিশু-বৃদ্ধসহ অসহায় মানুষের।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর আহাজারিতে নদীপাড়ের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। নিজের বসতভিটার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় পরিবারের সবাই ব্যস্ত। কারো সাথে কথা বলার সময়টুকু নেই।

কথা হয় বড়দরগা ও বুড়িরহাট এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস ছাত্তারের (৭০) সাথে। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘তিস্তা আমাদের সব শেষ করে দিল বাহে, আজ দেখা ছাড়া হামার করার কিছুই নাই। ছেলেবয়স থেকে কয়েকবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে ১৯৭৪ সালে এই জায়গায় বাড়ি করছি, এই বাড়ি আবার ভাঙছে। হামরা এখন কোথায় যাই?’

এ সময় হায়দার আলী (৪৫), আশরাফুল (৩৪), আাছির উদ্দিন (৫৫), আবুল হোসেন (৬০), রফিকুল (৩০) ও ছামাদ (৭০) ইউটিভিকে বলেন, ‘চোখের সামনে হামার শেষ সম্বলটুকু নদীতে গেল। হামার কষ্ট দেখার কেউ নাই, হামার করারও কিছু নাই। এখন কারো কাছে একটু জায়গা নিয়া থাকা লাগবে।’

এদিকে শুধু বাড়িঘরই নয়, এলাকায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, বুড়িরহাট বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ভাঙনের মুখে রয়েছে।

স্থানীদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর এই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ১শ’ পরিবারকে খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ইউতিভিকে মুঠোফোনে বলেন, নতুন করে পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীতে পানি বাড়ছে।

প্রবল স্রোতে নদীগুলোর বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হচ্ছে।