ঢাকারবিবার , ৩ অক্টোবর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়: কোয়াব

প্রতিবেদক
অর্পিতা অর্পা
অক্টোবর ৩, ২০২১ ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সব বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে শুধু দেশের ৩৪টি টিভি চ্যানেল প্রচার করে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ​কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতারা। তাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে দর্শক অন্য মাধ্যমে চলে যাবে। এতে কেবল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, দুরূহ হবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা।

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করে- এমন সব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চলতি মাসের শুরু থেকে বন্ধ রেখেছেন দেশের ক্যাবল অপারেটররা।

এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত বন্ধ থাকা বিদেশি চ্যানেলগুলো যেন তারা পুনরায় সচল করতে পারেন, সেজন্য তথ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন কোয়াব নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেবল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলেও গ্রাহক বসে থাকবেন না বলে মনে করেন কোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, মানুষ কিন্তু বসে থাকবে না। সুইচ করবে, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাবে। এই সুইচ করার সুযোগে কেবল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা যদি রাস্তায় বসে যায়, আমরা যদি এই সেক্টরে জড়িত মানুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিই, তাহলে এর দায়ভার কে নেবেন?

কোয়াবের সাবেক সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসেন সোহেল বলেন, দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য শুধু টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই-এর মতো হাজারও প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে।

কেবল অপারেটরদের পক্ষে একা ক্লিনফিড বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেন, এটি তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিড প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেবল অপারেটর হিসেবে কখনও আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিনফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।

এ সময় বিদেশি সব চ্যানেল বাদ দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় দাবি করেন কোয়াব সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যখন আইনটি হয়, তখন যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হত, তাহলে এখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হত না। সবগুলো বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহকেরা আমাদের সঙ্গে থাকবে না।

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপারেটর তার গ্রাহক হারাবেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

বিজ্ঞাপনবিহীন বা ক্লিনফিড বিদেশি চ্যানেল প্রচারের বিপক্ষে না বলে জানিয়ে সাবেক সভাপতি বলেন, ক্লিনফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিনফিডের বিপক্ষে না।

‘আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।’

করোনা পরিস্থিতিতে ক্লিনফিড বাস্তবায়নে সময় চেয়েছেন সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, এ জন্য সময় দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিনফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

‘অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’