ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জুলাই ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতির আশ্রয়ণ

প্রতিবেদক
ইউটিভি ডেস্ক
জুলাই ১৬, ২০২১ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চলমান মুজিববর্ষে দেশের লাখ লাখ গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে দুই শতক জমির ওপর সুদৃশ্য ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আশ্রয় তথা ঘর নির্মাণ করে হাতে তুলে দেয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অন্যতম একটি অঙ্গীকার।

এর মাধ্যমে কয়েক লাখ ভূমিহীন-গৃহহীনের আজীবন লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ইতোমধ্যে। বর্তমান সরকার গৃহীত এই স্বপ্ন পূরণের প্রকল্পটি ইতোমধ্যে বিশ্বে প্রশংসিত ও মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে ইতোমধ্যে প্রকল্পটির কিয়দাংশে বাস্তবায়ন নিয়ে কোথাও কোথাও অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যবস্থাসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। লজ্জাজনকও বটে।

প্রাথমিক তদন্তে ২২টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ব্যাপক তদন্তসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও শুরু হয়েছে। অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ৫ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আছেন একজন নারীও। একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ব্যবস্থা নেয়া হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও। কোথাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে জলাভূমিতে, কোথাও খালের ভঙ্গুর পাড়ে, কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। ইতোমধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই কয়েকটি ঘর ধসেও পড়েছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে স্বভাবতই। অতঃপর দুর্নীতি-অনিয়ম অর্থ আত্মসাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী ও অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

মুজিববর্ষে ভূূমিহীন-গৃহহীন সব অসহায় মানুষকে নতুন ঘর উপহার দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন তার আওতায় গত জুনে আরও সাড়ে ৫৩ হাজার পরিবার নতুন ঘর পেয়েছেন। একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে জমি ও গৃহ প্রদানের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম এবং মানবিক এ উদ্যোগ সারাবিশ্বের কাছে দারিদ্র্যবিমোচনে সক্ষমতা প্রমাণের একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

আমরা বর্তমান সরকারের সমধর্মী আরও মানবিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করতে পারি। নদীভাঙ্গন, ঝড়-বাদল-জলোচ্ছ্বাস এ দেশের মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। প্রকৃতির খেয়াল ও বিরূপ আচরণের সঙ্গে নদীসংলগ্ন ও উপকূলবাসীদের জীবন যেন ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। সহাবস্থান ও সংগ্রাম কাকে বলে সেটি বেশ ভালই জানে এসব লড়াকু পরিশ্রমী মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক দশক ধরে দেশের মানুষ নতুন করে দুর্ভোগ ও বিপন্নতার শিকার হয়ে চলেছে। উন্নত দেশগুলোর অপরিণামদর্শী আচরণের জন্য প্রকৃতির যে চিরকালীন ক্ষতিসাধন হয়ে চলেছে তার ভোগান্তির শিকার যে কয়টি দেশের মানুষ তার ভেতর বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে। বর্তমান জনকল্যাণকামী সরকারকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে মানুষ বাঁচাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তারই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ।

প্রসঙ্গত, রাজধানীকেন্দ্রিক সীমিত আয়ের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সীমা নেই। তাদের স্থায়ী কোন ঠিকানাও নেই। যারা সামান্য সচ্ছল তারা স্বল্প মূল্যের ভাড়া বাসায় থাকেন। যাদের ওই সামর্থ্যটুকুও নেই তারা রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করছেন। আজ এখানে কাল ওখানে অনেকটা যাযাবরের মতোই যেন তাদের জীবনযাপন। অনেকের মনে হয়ত স্বপ্ন জাগে এক টুকরো জমি কিংবা একটা ছোট ফ্ল্যাট কেনার। স্বপ্ন আছে কিন্তু সাধ্য নেই। বাস্তবতা থেকে তাদের স্বপ্ন ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে। দুই কোটি জনসংখ্যার মহানগরীর প্রায় ৪০ লাখ লোক এই শ্রেণীভুক্ত। নদীভাঙ্গনসহ বিভিন্ন কারণে সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিদিনই ঢাকামুখী হচ্ছে নিঃস্ব মানুষ। বাধ্য হয়েই ফুটপাথ আর ঝুপড়ি বস্তিতেই তাদের বসবাস করতে হয়। মাঝে-মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙ্গে দেয়া হয় তাদের সবকিছু।

এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের এসব মানুষের জন্য সরকার ২০ বছরের মধ্যে পরিশোধের সময় বেঁধে প্রতিদিন ২৭৫ টাকা কিস্তিতে বস্তির বাসিন্দাদের দুই বেডরুমের এ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে দিয়েছে। স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৫০ হাজার এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ। সেই স্বপ্ন পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের একটি মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে সেই সুন্দর সদিচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম যে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তা বলাই বাহুল্য।

তবে এসব নিয়ে কোনরকম দুর্নীতি-অনিয়ম, অব্যবস্থা, অর্থ আত্মসাত কাম্য নয় কোন অবস্থাতেই। সেজন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।