ঢাকাবুধবার , ৩০ জুন ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কঠোর বিধিনিষেধ ‘হার্ডলাইনে’ পুলিশ, প্রথমদিনেই গ্রেপ্তার হতে পারে কয়েক হাজার

প্রতিবেদক
অবনী হালদার
জুন ৩০, ২০২১ ৪:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন ‘কঠোর বিধিনিষিধে’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘হার্ডলাইনে’ থাকবে। এমনও হতে পারে, প্রথমদিনেই গ্রেপ্তার ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সর্বাত্মক লকডাউনে ডিএমপি বিভিন্ন ইউনিটের উপ-কমিশনাররা বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।- আজ বুধবার (৩০ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বাত্মক লকডাউনে শপিং মল, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট, দোকানপাট-সব বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজারে এর আগে ভিড় দেখা গেছে। অলিগলির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সে কারণে কাঁচাবাজার রাস্তায় এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসানো হবে। তবে কাঁচাবাজারে কেউ কোনো যন্ত্রচালিত গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন না। প্রয়োজনে রিকশা ব্যবহার করতে পারবেন।’

কঠোর বিধিনিষেধের সময়ে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রজ্ঞাপনে অনুমোদিত জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সাংবাদিকসহ অনুমোদিত যারা বাইরে বের হবেন তারা যেন মাস্ক এবং আইডি কার্ড নিয়ে বের হন। তারা পরিচয়পত্র দেখানো সাপেক্ষে যন্ত্রচালিত যানবাহনে চলাচল করতে পারবেন।’

রিকশায় সংক্রমণের ঝুঁকি কম বলে তা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মুভমেন্ট পাশের কোনো কার্যকারিতা নেই। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে পারবে না। শিল্পকারখানার মালিকেরা তাদের গাড়িতে চলতে পারবেন না, রিকশায় যেতে হবে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অকারণে কেউ যদি ঘর থেকে বের হয় তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হবে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। আবার আদালতে না পাঠিয়ে মোবাইল কোর্ট দিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এই ধারায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল, অর্থদণ্ড ও উভয়দণ্ড হতে পারে বলে জানান কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘কেউ অকারণে বের হলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো, প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ব্যবস্থা নেবো। অকারণে বের হলেই আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে। যানবাহন ব্যবহার করলে মোটরযান আইনে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী কেউ বাইরে বের হলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো, তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হবে। যেটি আমরা এর আগে কখনও করিনি। এবারে আমরা এই অবস্থান পর্যন্ত যাব। আপনারা এমনও শুনতে পারেন ডিএমপি প্রথম দিন ৫ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করেছে। এবার আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থায় থাকবো।’

নাগরিকদের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, ‘পুলিশ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যতটা কঠোর হবে, আপনার পরিবার-সন্তান ততটাই নিরাপদে থাকবে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন, পুলিশের সাথে তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে আমাদের ফাঁকি দিতে পারবেন, পুলিশের কাজের ভিডিও করে ভাইরাল করে পুলিশকে সমালোচনার মুখে ফেলতে পারবেন তবে সন্তান ও পরিবারকে সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে কোনো ধরনের যান্ত্রিক বাহন আমরা চলতে দেবো না। তবে সঙ্গত কারণ থাকলে বা নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারে যেতে হলে আমরা তাদের রিকশা ব্যবহারের অনুরোধ করবো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছিল সেখানে আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে রিকশা খোলা থাকে বিধায় সংক্রমণের সম্ভাবনা কম। তাই রিকশা ব্যবহার করা যাবে। তবে শুধুমাত্র জরুরি কাজে রিকশা ব্যবহার করা যাবে। কেউ যদি মনে করি বউ বাচ্চা নিয়ে পার্কে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রিকশা ব্যবহার করবে, সেটা হবে না।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঢাকায় যেসব বাজার কাঁচাবাজার রয়েছে সেগুলোকে রাস্তার পাশে নিয়ে আসা হবে, যাতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে পারেন। খাবারের হোটেলগুলো শুধুমাত্র খাবার বিক্রির জন্য খোলা থাকবে, কেউ বসে খেতে পারবে না। এছাড়াও আমরা অলিগলির কোনো দোকান খোলা রাখতে দেবো না।’

 

 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের উদ্দেশ্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘যারা বিদেশ থেকে ফিরবে তাদের বহনের জন্য গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। তবে আগত যাত্রীদের পরিবারকে আমরা অনুরোধ করবো, আপনারা গাড়ি দিয়ে বিমানবন্দরে না গেলেও চলবে। কারণ বিমানবন্দরে পার্কিংয়ে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের রাস্তায় পুলিশকে প্লেনের টিকিট এবং পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।’

ক্লাব ও বারের বিষয়ে কমিশনার বলেন, ‘ঢাকা ক্লাব হোক আর অফিসার্স ক্লাব সব বন্ধ থাকবে। ঢাকার কোনো ক্লাব খোলা থাকবে না।

ডায়াবেটিসের অনেক রোগী আছেন যারা প্রতিদিন পার্কে হাঁটতে যান, তারা কী করবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিসের রোগীরা এমনি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে, তাই আমি অনুরোধ করব তাদের, বাসার আশপাশের জায়গায় হাঁটাচলা করতে।’