ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জুলাই ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আম কূটনীতি ও নীতিকথা

প্রতিবেদক
অবনী হালদার
জুলাই ১৬, ২০২১ ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশকে ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আম কূটনীতি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে বলেই প্রতীয়মান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, নেপালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে কয়েক শ’ কেজি আম পাঠিয়েছেন। ভারতের কয়েকটি রাজ্য যেমন- পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আম পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

অধিকাংশই রংপুরের বিখ্যাত সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আম। কিছু ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগরও আছে। কোন কোন দেশে পাঠানো হয়েছে জাতীয় ফল কাঁঠালও। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভারতের কয়েকটি রাজ্য থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার পাঠানো হয়েছে চা, মধু, আনারস, অর্গানিক মসলা ইত্যাদি। করোনা মহামারীর এই ভয়ঙ্কর দুঃসময়েও আম কূটনীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সংহতি-সহযোগিতা সৃষ্টি সর্বোপরি যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী অবদান রাখতে সহায়ক হবে নিশ্চিতভাবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী চিঠির মাধ্যমে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় শেরেবাংলা নগরে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে। কর্মশালার বিষয় হলো- ফল ও শাকসবজি রফতানি আরও বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের সম্ভাবনা। উদ্যান ফসলের রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ফল ও শাকসবজি রফতানির ক্ষেত্রে ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়। সেসব দূরীকরণে সুপারিশ করা হয় ১৬টি। সর্বোপরি প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয় ৭ ধরনের ফল ও সবজি নিয়ে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটো ফল- আম ও লেবু। আর ৫টি সবজি হলো- দেশীয় শিম, বেগুন, শশা, পটোল ও করোলা।

আশা করা যায় পর্যায়ক্রমে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে বিদেশে ফল ও সবজি রফতানি আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে অচিরেই। এক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভ‚মিকা ও উদ্যোগ রাখতে হবে। সর্বোপরি বিমানের পরিবর্তে জাহাজ ও নৌপথে রফতানির ব্যবস্থা করতে হবে ফল ও সবজির। তাহলে তা হবে মূল্য সাশ্রয়ী ও বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক।

প্রতিবছর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের খামারবাড়িতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় ফল ও সবজিমেলা। বিপুল দর্শকধন্য প্রদর্শনীতে স্থান পায় ১১২ রকমের শাকসবজি। ইদানীং মাশরুমসহ কয়েক রকমের বিদেশী শাকসবজির আবাদও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশে। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইদানীং মানুষের মধ্যে শাকসবজি, ফলমূল খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে যথেষ্ট। তবু হতাশার কথা এই যে, বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের কারণে প্রতি বছর অনেক শাকসবজি নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় প্রায়ই কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়; এমনকি তার উৎপাদন খরচও ওঠে না। উদ্বৃত্ত সবজি খাওয়ানো হয় গবাদিপশুকে। এরপরও বিনষ্ট হয়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গোডাউনসহ শাকসবজি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতির অবস্থাও খুব একটা সুবিধের নয় কিংবা খুবই সীমিত। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফলমূল শাকসবজি রফতানি বাড়ানো ছাড়া গত্যন্তর নেই। বগুড়ার শিবগঞ্জে উৎপাদিত বাঁধাকপি রফতানি হচ্ছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে। শুধু বগুড়া থেকেই নয়, যশোরসহ অন্য দু’একটি জেলা থেকেও আলু, বাঁধাকপি এবং অন্যবিধ শাকসবজি রফতানির খবর আছে। বাংলাদেশের আম যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ কয়েকটি দেশেও যাচ্ছে। আম ক‚টনীতির মাধ্যমে এবারে তা প্রতিবেশী দেশগুলোতে রফতানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রফতানিকারকদের দাবি, তারা মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি সবজি কিনে থাকেন কৃষকের কাছ থেকে। এতে তারা নগদ অর্থে ভাল দাম পেয়ে থাকেন। অতঃপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং শীতলীকরণ পদ্ধতিতে কন্টেনারে ভরে শাকসবজি রফতানি করেন সংশ্লিষ্ট দেশে জাহাজযোগে। তবে এক্ষেত্রে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা কামনা করেন। এসব ক্ষেত্রে কৃষিবিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা একান্ত আবশ্যক।