ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইউ কৃষি
  5. ইউ মিউজিক
  6. ইউ স্পোর্টস
  7. ইউটিভি পরিবার
  8. ইয়ুথ ব্লেন্ড
  9. উদোক্তা
  10. উৎসব
  11. এককাপ চা
  12. এক্সক্লুসিভ
  13. খেলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গসিপ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চলছে রোপা আমনের ব্যাস্ততা:
অতিবর্ষনের দুর্যোগ কাটিয়ে উঠেছে শরণখোলার চাষীরা

প্রতিবেদক
আসাদুজ্জামান মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি বাগেরহাট
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টির কারনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফসলহানীর আশংঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন শরণখোলার চাষীরা। তাদের অদম্য ইচ্ছার কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেন হার মেনেছে।

পানিতে তলিয়ে উপজেলার ৯০ ভাগ বীজ তলা নষ্ট হলেও থেমে যায়নি এ উপজেলার ৪ ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। কেউ কেউ পুনরায় বীজতলা তৈরি করেছেন। কেউ আবার পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে চড়া দামে বীজ কিনে ‘রোপন করছেন নিজ নিজ জমিতে। বীজ সংগ্রহ ও রোপনের কাজে চলছে চাষীদের ব্যস্ততম সময়।

গত আগষ্টের মধ্য ভাগে বিরামহীন ভারী বর্ষনে শরণখোলা উপজেলার শতভাগ ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের নির্মানাধীন বেরী বাঁধের ত্রুটি ও প্রবাহমান খালে স্লুইজগেট নির্মান না করায় ভারী বর্ষন রুপ নেয় জলাবদ্ধতায়। চলতি আবাদ মৌশুমে চাষীদের তৈরী বীজতলার কোথাও বুক সমান, কোথাও হাটু সমান পানি জমে যায়। এ সময় ক্ষুব্ধ চাষিরা বেরী বাঁধের কয়েকটি অংশ কেটে দিতে উদ্ধত হলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়।

জলাবদ্ধতার কারনে প্রায় ৯০ ভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষীদের মধ্যে হাহাকার দেখা দেয়। মৌশুমের উচ্চ ফলনশীল আমন ও উফশী ধানের চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক এ বিপর্যয় দমাতে পারেনি শরণখোলার চাষীদের। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চাষীদের কেউ কেউ দ্বিতীয় বারের মত বীজতলা তৈরী করেন। কেউ কেউ পাশ্ববর্তী মঠবাড়ীয়া, ইন্দুরকানী, কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন। শরণখোলার আমড়াগাছিয়া, রাজাপুর সহ কয়েকটি বাজারে অস্থায়ীভাবে বীজ কেনা বেচার হাট জমে ওঠে। এসব হাটে সকাল থেকে রাত অবদি চলে বীজের বেঁচা কেনা।


কচুয়া উপজেলার তুহিন মিয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাড়ইখালীর মিলন হাওলাদার জানান, তারা প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি বীজ এনে আমড়াগাছিয়া ও রাজাপুর বাজারের চাষীদের কাছে বিক্রি করেছেন। এখানে প্রতি পোন (৮০ গুছি) ১৩শ থেকে ১৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলার কদমতলা গ্রামের চাষী এমাদুল গাজী জানান, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবার পর তার ৫ বিঘা জমির জন্য পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে ৫ পোন বীজ ৭ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে এনে তা রোপন করেছেন। মনির গাজী জানান, তার ৪ বিঘা জমির জন্য ৭ হাজার টাকার বীজ কিনতে হয়েছে।

উপজলো কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় স্থানীয় জাতের ৪০৫০ হেক্টর, উপশী ৫১৮০ হেক্টর, হাইব্রীড ২০ হেক্টর সর্বমোট ৯২৫০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। গত কাল ৯ অক্টোর পর্যন্ত স্থানীয় ৩৮৫০, উপশী ৪০০০, হাইব্রীড ১৬ সর্বমোট ৭৮৬৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন সম্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে শরণখোলা অদম্য চাষীদের ইচ্ছা শক্তির পাশাপাশি উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে ৬ টন ও ৩০০ জনকে বিনামূল্যে বীজ সরবারহ করা হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল ইসলাম মনি জানান, অনেক চাষীরা পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করলেও শরণখোলার যেসব চাষীরা দ্বিতীয় বারের বীজতলা তৈরী করেছেন তাদের অনেকের বীজ উদ্বৃত্ত থাকবে।


শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, অতি বর্ষনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শরণখোলায় এবার ফসলহানীর যে আশংঙ্কা দেখা দিয়েছিল, শরণখোলার অদম্য চাষীরা তা ধৈর্য্যরে সাথে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথা সময়ে পদক্ষেপ নেয়ায় ও কৃষি বিভাগের নিবির পরিচর্যার কারনে শরণখোলার চাষীরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে এ উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।